ফ্যাসিস্ট হাসিনার দোসর বিএডিসি’র প্রকল্প পরিচালক মুজিবরের দুনীতিতে তছনছ প্রকল্পের কর্যক্রম
লিটন আলী
আপলোড সময় :
২৪-০৬-২০২৬ ১০:৪৬:২৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৪-০৬-২০২৬ ১০:৪৬:২৩ অপরাহ্ন
বিএডিসি
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) অধিনে স্বৈরাচারী পতিত লীগ সরকারের দোসর প্রকল্প পরিচালক মুজিবুর রহমানের বেপরোয়া ঘুষ দুনীতি কারণে প্রকল্পের আওতায় সকল কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু মাত্র পিডির আর্থিক অনিয়ম দুনীতি কারণে।
সুত্রে আরও যানা যায়, লীগ সরকারের আমলে দাপট দেখিয়ে সাবেক কৃষি মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক এর ছত্র ছায়ায় প্রকল্প পরিচালক পদটি বাগীয়ে নেন, মহা ধুত্যবাজ এই কর্মকর্তা। প্রকল্পের পিডির দায়িত্ব পেয়ে গড়ে তুলেছিলেন সু বিশাল ঠীকাদার সিন্ডিকেট বাহীনি, সেই সিন্ডিকেট বাহীনি দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করে, গোপন দর প্রদান করেন ঠিকাদার দের কাজ পাইয়ে দিতেন তিনি। বিনিময়ে উক্ত কার্যাদেশ বিপরীতে অগ্রীম ১০% হারে কমিশন বানিজ্য চালিয়ে গেছেন পিডি মুজিবর। মিস্টার ১০% নামে পরিচিত বিএডিসি র” সাধারণ ঠিকাদার দের নিকট পিডি মুজিবের নাম। প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন নির্মাণ কাজের দরপত্রের মাধ্যমে ঘুপচি টেন্ডারের কারসাজি করে বেপরোয়া হয়ে ঘুষ বানিজ্য চালিয়ে গেছেন পিডি মুজিবর রহমান খান। অনেক জায়গায় নাম মাত্র কাজ করে সমূদয় টাকা আত্মসাৎ করছেন বলে একাধিক সুত্রে যানা যায়।
সুত্রে আরও জানা যায়, বিএডিসি’র বিদ্যমান সার গুদামসমূহের রক্ষণাবেক্ষণ,পূর্নবাসন এবং নতুন গুদাম নির্মাণের মাধ্যমে সার ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম জোরদারকরণ প্রকল্প (২য় পর্যায়) বিএডিসি’র “বিদ্যমান সার গুদামসমূহের রক্ষণাবেক্ষণ, পুনর্বাসন এবং নতুন গুদাম নির্মাণের মাধ্যমে সার ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম জোরদারকরণ” প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) মো. মজিবর রহমান খানের বেপরোয়া দুনীতি চালিয়ে গেছেন দেদারসে। রাত কে দিন আর দিন কে রাত বানানোই ছিল তাঁর কাজ। নিজের আখের গুছিয়ে লাগামহীন দুনীতি মাধ্যমে প্রকল্পের থেকে । প্রকল্পের বিবরণ ও তথ্য: অনুযায়ী উক্ত প্রকল্পেটি শুরু হয়েছিল জুলাই ২০১৯ থেকে জুন ২০২৬ সালে শেষে হওয়ার কথা থাকলেও প্রকল্পের পিডি মুজিবরের অদক্ষতা কারণে পুরোপুরি ১০০% শেষ হয়নি আজ-ও পযন্ত বলে একাধিক কর্মকর্তারা জানান। প্রকল্পের মোট বরাদ্ধ: প্রায় ৩৫০.৮৮ কোটি টাকা বরাদ্ধ থাকলেও সিংহ ভাগ টাকা পিডির পকেটে গেছেন অতি নিম্নমানের সংস্কার মেরামত কাজ না করে,যা সরেজমিনে তদন্ত করলে থলের বিরাল বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন বিএডিসির সাধারণ কর্মকর্তারা।
সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল – সার ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহ কার্যক্রম জোরদারকরণের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষির সামগ্রিক উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন। গুদাম নির্মাণের মাধ্যমে বিএডিসি’র সার ব্যবস্থাপনা বিভাগের নন-নাইট্রোজেনাস সার সংরক্ষণ ক্ষমতা বর্তমান পর্যায়ের চেয়ে ৫০% বৃদ্ধির মাধ্যমে সার ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম জোরদারকরণ। সুষ্ঠুভাবে ও সময়মত প্রান্তিক কৃষকের দোর গোড়ায় সার সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং গুদাম, অফিস রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি সরবরাহের মাধ্যমে সার ব্যবস্থাপনা বিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। প্রকল্পের আওতায় সকল উন্নয়ন মুলক কার্যক্রম দৃশ্যমান না হলেও পিডি মুজিবের আর্থিক সুবিধা নেওয়ার কারণে ডুবতে বসেছে প্রকল্পের উন্নয়ন মুলক কর্মকাণ্ড।
মহা ঘুষখোর দুর্নীতি পরায়ন লীগের দোসর প্রকল্প পরিচালক মো. মজিবর রহমান খানের বিরুদ্ধে বেপরোয়া হয়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও সাবেক কৃষি মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক এর ছোট ছেলের মাধ্যমে সেই সকল অভিযোগ আজও পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। দুনীতির মাধ্যমে অঢেল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ থাকলেও বিএডিসির কতৃপক্ষের নিরবতা ও অদৃশ্য শক্তি কারণে এখনো বহাল তরিয়াতে আছেন তিনি। রাতা রাতি ভোলপাল্টে বর্তমানে বিএনপি পন্থাী দাবি করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন দেদারসে বিএডিসিতে।
বিএডিসির সারা দেশে সার ব্যবস্থাপনা জোরদারকরণ এবং কৃষকের দোরগোড়ায় সার পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বিদ্যমান গুদাম সংস্কার ও নতুন গুদাম নির্মাণের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও পিডির আর্থিক দুনীতির কারণে মুখ থুবড়ে পড়েছে প্রকল্পের আওতায় সকল উন্নয়ন মুলক কর্মকাণ্ড।
প্রকল্পের আওতায় যেসকল স্হানে নতুন গুদাম নির্মাণ এবং পুরোনো গুদাম সংস্কারের কাজ, যে সকল জেলায় সম্পন্ন হয়েছে রয়েছে। নির্মাণ সংস্কারের কাজে ব্যাপক কারচুপির হয়েছে বলে সুত্রে যানা গেছে। বিএডিসির সার গুদাম নির্মাণ ও সংস্কার কাজ যেসকল জেলায় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি জেলা হলো:রংপুর: রংপুরের আলম নগরে নতুন গুদাম নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে সেটিও ডিপিপির বাইরে হয়েছে।
দিনাজপুর: জেলার বিরামপুর উপজেলায় ৭২০০ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার সার গুদাম ও অফিস ভবন নির্মাণ করা হয়েছে অতি নিম্নমানের।
ঠাকুরগাঁও: এখানে আধুনিক সার গুদাম নির্মাণ ও কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।সিরাজগঞ্জ: রায়গঞ্জে সাড়ে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে অত্যাধুনিক সার গুদাম নির্মাণ করা হয়েছে দরপত্রে চাহিদা মাফিক হয়নী সেখানেও দুনীতির আশ্রয় নেয়য়া হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা: বিএডিসি প্রাঙ্গণে আড়াই হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার নতুন গুদাম নির্মাণ করা হয়েছে সেটা ও একইভাবে অতি নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে নিজের আখের গুছিয়ে লাগামহীন দুনীতি মাধ্যমে প্রকল্পের থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি। নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহ: এই দুই জেলায় সার মজুতের জন্য নতুন দুটি গুদাম নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।মানিকগঞ্জ: বৃহত্তর ঢাকা সেচ এলাকা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নানা অবকাঠামো উন্নয়ন করা হয়েছে? সকল জায়গাতে দুনীতির আশ্রয় নেয় হয়েছে।
বিএডিসি ঐ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশকে ২১টি অঞ্চলে বিভক্ত করে সার গুদাম রক্ষণাবেক্ষণ ও নতুন গুদাম নির্মাণের আর্থিক দুনীতি করে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। উল্লেখীত যেসকল স্হানে নির্মাণ সংস্কার মেরামত করা হয়েছে পিডি তাঁর মনোনীত ঠিকাদার দের গোপন দর প্রদান করে। সেই সকল ঠিকাদার দের মাধ্যমে কমিশন বানিজ্য করে হাতিয়ে নিচ্ছেন বিপুল পরিমাণ অর্থ বলে জানান একাধিক কর্মকর্তারা। এই ভাবে প্রকল্প থেকে লুটপাটের মহোৎসব চালিয়েছেন মহা ঘুষখোর দুর্নীতি পরায়ন লীগের দোসর পিডি মুজিবর রহমান খান।
নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload
কমেন্ট বক্স